image

বিষ যন্ত্রণায় সাঙ্গুর আহাজারি, কানে শুনলেও নির্বিকার স্থানীয় প্রশাসন!

image

সাতকানিয়া এবং চন্দনাইশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় নির্বিচারে সাঙ্গু নদীর চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া অংশের শীলঘাটা এবং ধোপাছড়িসহ বিভিন্ন অংশে বিষ প্রয়োগ করে বেআইনিভাবে মাছ নিধন করছে একটি চক্র। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুম এলেই নদীতে বিষ ঢেলে মাছ শিকার শুরু করে দুর্বৃত্তদের এই চক্রটি।

এরি ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) ভোরে এই বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটে। এতে নদীর প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষ-লক্ষ মাছ আধমরা এবং মরা অবস্থায় ভেসে উঠেছে। পাশাপাশি বিষের কারণে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি মাছের খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং মাছের বংশ বিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মারা যাচ্ছে নির্বিচারে ছোট-বড় মাছগুলো। এতে হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য। অন্যদিকে এ সকল মাছ খেয়ে শরীরে কোনো রকম রোগ ছড়াচ্ছে না তাও নয়। বিষ খেয়ে যেহেতু মাছ মারা হচ্ছে তাহলে এই মাছ খেলে শরীরে রোগ হতে পারে বলছে বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে, সাঙ্গু নদীর বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের নিয়ে জাতীয় দৈনিক,স্থানীয় দৈনিক এবং অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুলোতে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পরও ,স্থানীয় প্রশাসনের ঘুম ভাঙ্গেনি। কানে শুনার পরও যেন নির্বিকার প্রশাসন। প্রশাসনের এই গাফিলতির জন্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ মানুষের আর্শীবাদ সাঙ্গু নদীর হরেক প্রজাতির মিঠা পানির মাছ। মাছের বিচরণের অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে উঠলেও বর্তমানে সেই বিচরণ ক্ষেত্র আজ বিলুপ্তির পথে।

সরেজমিন দেখা যায়, নদীর প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মরা, আধা মরা মাছ পানিতে ভেসে ওঠছে। ভেসে ওঠা মাছের বেশির ভাগই চিংড়ি পোনা। এ সময় শত শত উৎসুক নারী পুরুষ ও শিশুরা হাতজাল, ঠেলাজাল, চালুনী, মশারী, ফিন্যা নিয়ে নদীতে মাছ ধরছে।

এ সময় নদীপাড়ের বাসিন্দারা সিভয়েসকে বলেন, সকালে লোকজন নদীতে গোসল করতে গেলে তারা মরা-আধা মরা চিংড়ি পোনা আর ছোটছোট পুঁটি মাছের পোনা ভাসতে দেখেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নদীর ঘাটে ঘাটে নারী-পুরুষেরা মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রায়সবাই এক কেজি-আধা কেজি করে মাছ পান এখানে।

শীলঘাটা স্থানীয় বাসিন্দা সজিব সিভয়েসকে বলেন, দুই মাস ধরে কিছু অসাধু মানুষ নির্বিচারে নদীতে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলছে। রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করে এই চক্রটি। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে নদীতে বিষ ঢেলে মাছ শিকার করা হয়। কিন্তু যারা এসব কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিবছর বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটাচ্ছে।

ধোপাছড়ি স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল সিভয়েসকে বলেন, রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগের পর ভোরের আলো ফুটতেই মাছ ধরতে নামে চক্রটি। প্রতিবছর শীত মৌসুম শুরুর আগে ও পরে নদীর পানি কমে গেলে একটি চক্র নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন শুরু করে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় একজন সিভয়েসকে বলেন ,শীলঘাটা এবং ধোপাছড়ির কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রতিনিয়ত এই নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ স্বীকার করছে। বিষ প্রয়োগকারীরা সংঘবন্ধ , রাতের আধারে তারা অস্ত্রসজ্জিত হয়ে মুখোশ পরিধান করে তারা বিষ প্রয়োগ করে,তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে,প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিষ প্রয়োগ কারীদের মধ্যে শীলঘাটার সাবেক ইউপি মেম্বার, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা এবং ধোপাছড়ির কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসি। ধোপাছড়ি এবং পুরানগড়ের চেয়ারম্যান এদের ব্যাপারে অবগত থাকলেও কোনো এক অজানা কারেণে ব্যবস্থা গ্রহণ নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে নিয়ে সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন সিভয়েসকে বলেন, নদীতে বিষ প্রয়োগের কারণে ছোট-বড় মাছ নির্বিচারে মারা যায়। এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে তৈরি মাছের খাদ্য ও প্রজনন নষ্ট হয়ে যায়। এক কথায় বিষ দিয়ে মাছ শিকার জীববৈচিত্র্যের জন্য দারুন হুমকিস্বরূপ।

আজকের মধ্যে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে ঘটনা স্থলে গিয়ে তদন্ত পূর্বকব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; বলেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১৪নং পুরাণগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহাবুবুল হক সিকদারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

-সিভয়েস/এসসি

image

সম্পাদক : এম. নাসিরুল হক

ফোনঃ ০৩১২৮৫০৫৯০
ই-মেইল : news@cvoice24.com
news.cvoice24@gmail.com

সিভয়েস মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান

আর কে আর ট্রেড সেন্টার
বাড়িঃ ২৩৪, নিচতলা, ঝাউতলা স্টেশন রোড দক্ষিণ খুলশী, চট্টগ্রাম

সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত, এই ওয়েব সাইটের যেকোন লিখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ন বেআইনি

Copyright © cvoice24.com 2018