image

শেষ কবে বাড়িতে ঈদ করেছি মনে নেই- পুলিশ কমিশনার

image

কর্মস্থলে সহকর্মী পুলিশ সদস্যদের বেশিরভাগ ছুটি দিতে পারা ও যারা ছুটি পায় না তাদেরকে আনন্দে রাখার মধ্যে ঈদের আনন্দ খুঁজে পান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান। 

ঈদের আনন্দ নিয়ে এক আলাপচারিতায় সিভয়েসকে এসব কথা বলেন তিনি।

 তিনি বলেন, এখন আমার ঈদের আনন্দ হচ্ছে আমি কর্মস্থলে সহকর্মীদেরকে বেশিরভাগ ছুটি দিতে পারলাম কিনা৷ যদি বেশিরভাগ ছুটি দিতে পারি তখন আমি মনে করি আমার ঈদের আনন্দটা পূর্ণাঙ্গ হয়। কিন্তু এটাও অনেক সময় দিতে পারিনা। অনেক সময় দেখা যায় যতটুকু ছুটি তাদের পাওয়ার কথা ততটুকু তাদেরকে দেয়া সম্ভব হয়না। তবে আমার চেষ্টা থাকে বেশিরভাগ ছুটি দেয়ার জন্য। 

ছুটি পাওয়ার ব্যাপারে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে সিএমপি কমিশনার বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা ছুটি হয়তো পায়। তবে শেষ মুহুর্তে। এতে অনেকে কোন টিকেট পায়না, বাড়িও যেতে পারে না। পাশাপাশি পরিবারকে নিয়ে ঈদ উৎযাপনের কোন পরিকল্পনা সাজাতে পারেনা। এই অনিশ্চয়তা দূর করার চেষ্টা ছিল। এবার চেষ্টা করেছি পর্যায়ক্রমে অনেক আগে থেকে ছুটি দেয়ার। সাত দিন আগে থেকেই ফোর্স জানে সে ছুটি পাবে কি পাবেনা। আমরা এবার মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ফোর্সকে ছুটি দিয়েছি। তারা আগে থেকেই ছুটির তথ্য জানতে পারছে। ফলে বাবা মাকে জানাতে পারছে যে আমি ঐ দিন আসবো, পরিবারের সাথে ঈদ পালনের পরিকল্পনা সাজাতে পারছে। 

তবে ফোর্সকে ছুটি দেয়ার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পেলেও নিজে শেষ কবে গ্রামে ঈদ করেছেন এটা ঠিক মনে করতে পারছেন না বলে জানান তিনি। শেষ কবে গ্রামে ঈদ করেছেন এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, শেষ কবে গ্রামে ঈদ করেছি মনে নেই। তবে গত রোজার ঈদের পরদিন একদিনের জন্য গ্রামে গিয়েছিলাম। তবে ঈদের নামাজ শেষ কবে গ্রামে পড়েছি তা মনে নেই। 

শৈশবের ঈদের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, গ্রামে ছোট বেলায় ঈদ করার আনন্দ ছিল ভিন্ন। ঈদের আগে থেকে ঈদ আসবে, ৩ দিন পর ঈদ, ২ দিন পর ঈদ এই যে প্রতীক্ষাটা ছিল সেটাই বেশি আনন্দের ছিল। এই আনন্দটাতো এখন অবশ্য আর পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে আমার সন্তানরা নিশ্চয়ই সে ধরনের আনন্দ ফিল করে। যেটা আমরা ছোট বেলায় করতাম। 

বাড়িতে পরিবারের সাথে ঈদ করার যে আনন্দ তা এখন স্থানান্তরিত হয়েছে সন্তানদের সাথে ঈদ করার আনন্দে। আমি যদি কর্মস্থলেই ঈদ করি এবং সেটা যদি হয় আমার স্ত্রী সন্তানদের সাথে তাহলে আমি মনে করি আমার গ্রামের ছোট বেলার যে ঈদ সে ঈদের পূর্ণতা পেয়ে যায়। তবে সেটাও অনেক সময় হয়ে উঠে না আমার জন্য। অনেক সময় কন্যা, ছেলে, স্ত্রী থাকে ঢাকায় আর আমি থাকি কর্মস্থলে। তবে এবার যেহেতু তারা এসেছে, আমার কাছে মনে হয়েছে আমার ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পাচ্ছে। 

তিনি বলেন, কর্মস্থলে স্ত্রী, সন্তান ও সহকর্মীদের নিয়ে ঈদ করাটাই এখন আনন্দের। এখন আর গ্রামে বাবা-মার সাথে ভাই-বোনের সাথে ঈদ করতে পারলাম না সেই কষ্ট নিজেকে পীড়িত করে না। বরং বেশি ফোর্স যেন ছুটি পায় আর যারা ছুটি পায়না তাদেরকে আনন্দে রাখার মধ্যে আনন্দ পাই। 

ঈদের দিনের পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, ঈদের দিন শুরু হবে নামাজের মধ্য দিয়ে। ছেলেদের নিয়ে পুলিশ লাইন মসজিদে নামাজ পড়বো। নামাজের পর ফোর্সের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবো। কুরবানির পর ফোর্সের বড়খানায় অংশ নিব। এরপর বাসায়  পরিবারের সদস্যরা, আত্মীয় স্বজনদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়। বিকেলে ও রাতে বেশ কিছু প্রোগ্রাম আছে যেগুলোতে আমি নিমন্ত্রিত। হয়তো অংশ নিব। ঈদের পরের দিন আমার বাসায় আমার দাওয়াতে বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন, পরিচিতরা অনেকে আসবেন।

-সিভয়েস/এএস/এমএম

image

সম্পাদক : এম. নাসিরুল হক

ফোনঃ ০৩১২৮৫০৫৯০
ই-মেইল : news@cvoice24.com
news.cvoice24@gmail.com

সিভয়েস মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান

আর কে আর ট্রেড সেন্টার
বাড়িঃ ২৩৪, নিচতলা, ঝাউতলা স্টেশন রোড দক্ষিণ খুলশী, চট্টগ্রাম

সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত, এই ওয়েব সাইটের যেকোন লিখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ন বেআইনি

Copyright © cvoice24.com 2018