image

বহদ্দারহাটে নগরের সবচেয়ে বড় কসাই হাট

image

চট্টগ্রাম শহরের অলি-গলি ভরে উঠেছে কুরবানির পশুতে। কেউ উঠানে, কেউ গলিতে, কেউ বাসার সামনেই ছোট ত্রিপল টাঙ্গিয়ে যত্নে রেখেছেন হাট থেকে আনা কুরবানির পশুটিকে। কিন্তু আগামী কাল (১২ আগস্ট) ঈদ জামাতের পর আল্লাহর হুকুম আহকাম মেনে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের আশায় জবাই দিতে হবে যত্নে রাখা পশুকে। তাই কুরবানির ঈদের সব প্রস্তুতি শেষে এখন সবার ব্যস্ততা কসাই খোঁজায়।

রোববার (১১ আগস্ট) কুরবানির ঈদের আগের দিন শেষ রাতে নগরীর বহদ্দারহাট মোড় (ফ্লাইওভার এর নিচে), আনসার ক্লাব মোড়, পাথারঘাটা সহ বিভিন্ন স্থানে ভিড় করছে কসাইরা।
তবে নিজেদের কসাই বলে দাবি করলেও  মূলত তারা সবাই এ পেশার লোক নয়। এদের বেশির ভাগ লোকই সারাবছর জীবিকা হিসেবে বেছে নেয় অন্যান্য পেশা; এদের কেউ দিন-মজুর, কেউ নির্মান-শ্রমিক আবার কেউ বা চালায় রিকশা। কিন্তু বছরের এই একটি দিনে কসাইদের ভালো কদর থাকায় শুধুমাত্র ঈদের দিনের জন্য এরা কসাই।
মূলত জীবিকার তাগিদে দেখে শেখা জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তারা একদিনের জন্য এ পেশায় এসেছেন।

কুরবানির ঈদের আগের রাতে চট্টগ্রাম নগরের সবচেয়ে বড় কসাই-হাট বসেছে বহদ্দার হাট মোড়ে। তাই বহদ্দারহাট মোড় থেকে ফ্লাইওভারের নিচ পর্যন্ত বিশাল এলাকা জুড়ে আজ কসাই-হাট বসেছে। প্রায় ২ থেকে ৩শত কসাই আছে এখানে। আবার প্রত্যকের সাথে আছে দু'তিন জনের একাটি করে দল। অর্থাৎ একজনকে কাজ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই যদি কাজে লাগাতে হয় পুরোদলকেই কাজে নিতে হবে। মূলত কোরবানি পশুর আকৃতির ওপর তাদের মজুরি নির্ধারন করা হয়। যদি গরু বড় হয় তাহলে মজুরি বেশি আর ছোট হলে মজুরিও কম। সাধারণত ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা মজুরি পেলেই খুশি মনে কাজ নিতে আগ্রহী তারা। কিন্তু কুরবানির ঈদের দর কষাকষি চলে এ বাজারেও।

কসাইদের বেশির ভাগ লোক শহরের অস্থায়ী বাসিন্দা হলেও উত্তরাঞ্চল থেকেও কিছু লোক কসাই সেজে এসেছেন হাটে। এদের এমনই একজন রাঙ্গুনিয়া থেকে আসা মঞ্জু মিয়া, নিজ সন্তান আর ভাতিজাকে সাহায্যকারি (হেলপার) বানিয়ে এসেছেন কিছু অর্থ উপার্জনের আশায়। আজ কাজ পেলে মোবাইল নাম্বার আর বাসার ঠিকানা নিয়ে কুরবানের দিন ঈদ-জামাতের ঠিক আগেই কর্মস্থলে পৌছে যাবেন পুরো দল নিয়ে, তবে কাজ না পেলে ফিরতে হবে শূণ্য হাতে।

তার মত অনেকেই এসেছেন হাটে। কেউ রাঙ্গুনিয়া থেকে,কেউ রাউজান থেকে, কেউ কাপ্তাই থেকে এসেছেন। বহদ্দার হাট ফ্লাইওভারের ঠিক নিচেই ভিড়ের মধ্যে কসাইয়ের সন্ধান করছেন শহুরে চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আলতাফ রহমান। তিনি সিভয়েসকে জানালেন, উর্ধ্বগতির ছাপ পড়েছে এ বাজারেও গতবার ২ (৮০ কেজি) মণ আকৃতির গরুর জন্য আড়াই হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু এইবার একই আকৃতির গরুর জন্য ৪ হাজার টাকা দর হাঁকছেন কসাইরা।

ফ্লাইওভারের নিচে ঠিক সামনেই এক ক্রেতার ভ্রু কুচকিয়ে, হাত নেড়ে কথা বলার অঙ্গি-ভঙ্গিতে বোঝা যাচ্ছে দর-দাম মিলছে না তারও। এদের মত অনেক ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে চলছে দর কষাকষি। হাটে আসা মিন্টু কসাই সিভয়েসকে জানান ভোর রাত পর্যন্ত চলবে এ হাট।

-সিভয়েস/এএ/এএস/এমএম

image

সম্পাদক : এম. নাসিরুল হক

ফোনঃ ০৩১২৮৫০৫৯০
ই-মেইল : news@cvoice24.com
news.cvoice24@gmail.com

সিভয়েস মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান

আর কে আর ট্রেড সেন্টার
বাড়িঃ ২৩৪, নিচতলা, ঝাউতলা স্টেশন রোড দক্ষিণ খুলশী, চট্টগ্রাম

সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত, এই ওয়েব সাইটের যেকোন লিখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ন বেআইনি

Copyright © cvoice24.com 2018