image

আজ, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২০ ,


সহজে মিলছে এন্টিবায়োটিক, বাড়ছে ঝুঁকি, সীমাবদ্ধ নজরদারি

সহজে মিলছে এন্টিবায়োটিক, বাড়ছে ঝুঁকি, সীমাবদ্ধ নজরদারি

ছবি : সিভয়েস

প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রির ব্যাপারে সরকারের নীতিমালা থাকলেও, উপযুক্ত নজরদারি না থাকায় মানা হচ্ছে না নীতিমালা। ২০১৭ সালে প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক নির্দেশনায় বলা হয়, কেবল রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র মোতাবেক এন্টিবায়োটিক বিক্রয়, সেবন বা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে কেবল সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী কর্তৃক সরবরাহকৃত এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু সেই নির্দেশের বাস্তবায়ন নেই।

বেঁচে থাকার তাগিদে বিভিন্ন কারণে হঠাৎ ঠান্ডা লাগা বা সর্দি-জ্বর হওয়া যে কারো জন্য খুবই সাধারণ একটি বিষয়। ঠান্ডা বা সর্দি-জ্বর মানুষকে খুবই সামান্য image কারণে যেমন ভোগাতে পারে, তেমনি সহজেই সেরেও যেতে পারে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হল সামান্য এ-জ্বরে, কোন রকম ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসিতে গিয়ে প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধের পাশাপাশি এন্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ কিনছে মানুষ, যা মানব জাতির জন্য হুমকি স্বরুপ।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারি পরিচালক হোসাইন মোহাম্মদ ইমরান সিভয়েসকে বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছি। কিন্তু অফিসে লোকবল সংকটের কারণে আমরা সবখানে নজরদারি করতে পারছি না।

তিনি আরো বলেন, এন্টিবায়োটিকের সু-ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য জনগণের সচেতনতা খুবই জরুরী। আমাদের দেশে রোগীরা ওষুধের দোকান থেকে মুখস্থ এন্টিবায়োটিক ক্রয় করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সেবন করে থাকেন। তারা খুব দ্রুত রোগ থেকে মুক্তি চান। ফলে এন্টিবায়োটিকের যথার্থ প্রয়োগ না হওয়ায় জীবাণুগুলো ধীরে ধীরে রেজিস্ট্যান্স হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এন্টিবায়োটিকের অপরিকল্পতি ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশের হাসপাতালে আইসিইউগুলোতে ৮০ শতাংশ মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং হতে পারে এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠা অণুজীব বা সুপারবাগ। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানে এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের চিত্র ভয়াবহ। পৃথিবীতে ৩০-৩৫ ধরনের  এন্টিবায়োটিকের মধ্যে অনেক এন্টিবায়োটিক কার্যক্ষমতা হারিয়েছে। এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার করতে লাগে ১৫ বছর, বিপরীতে ব্যাকটেরিয়া রেজিস্টেন্স হতে লাগে এক বছর। আগামী সাত বছরে দুইবারের বেশি এন্টিবায়োটিক আসার সম্ভাবনা নেই। এক সময় দেখা যাবে, রোগের জীবাণুকে কোনো ওষুধ দিয়েই ধ্বংস করা যাচ্ছে না। এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহারের কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে দেশের শিশুরা।

নগরীর চকবাজার, বাহদ্দারহাট, হাজারীগলি, আগ্রবাদ এলাকার বিভিন্ন ফার্মেসি ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা চাহিবার মাত্র ফার্মেসি ব্যবসায়ীরা প্রেসক্রিপশনবিহীন বিভিন্ন রকম সর্দি-জ্বর থেকে শুরু করে জটিল রোগের এন্টিবায়োটিক বিক্রয় করছে।

কেন প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রয় করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে আগ্রাবাদের ফার্মেসি ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, অনেকে আমাদের কাছে এসে নানা ধরণের অসুখের কথা বলে এবং অনুরোধ করে ওষুধ দেওয়ার জন্য। আমরা যেহেতু অনেক বছর ধরে ওষুধ ব্যবসার সাথে আছি, আমাদেরও একটা অভিজ্ঞতা আছে রোগ নিয়ে। তিনি আরো বলেন, কোর্স এন্টিবায়োটিক খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি ক্রেতাদের।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক সাইদুর রহমান সিভয়েসকে বলেন, সাধারণ জ্বর ও সর্দি কাশিতে সাধারণত কোনো এন্টিবায়োটিকের দরকার হয় না। কিন্তু ওষুধ বিক্রির ব্যাপারে কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় এবং ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র না লাগায় মানুষ সাধারণত অসুখ-বিসুখের জন্যও নিকটবর্তী দোকান থেকে এন্টিবায়োটিক কিনে তা সেবন করছে।

জীবাণু সংক্রমণ নিশ্চিত না করে কখনো এন্টিবায়োটিক গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়ে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক খাজা নাজিমুদ্দিন বলেন, সাধারণত জীবাণুর কালচার সেনসিটিভিটি করেই নিশ্চিত হওয়া যায় কোন জীবাণু দিয়ে সংক্রমণ হয়েছে এবং কোন এন্টিবায়োটিক আপনার জন্য প্রযোজ্য। কালচারের রিপোর্ট পেতে সময় লাগে, ততদিন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করাই ভালো। চিকিৎসকের নির্দেশনা ছাড়া কখনো নিজে বা কারো কথায় অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করবেন না। এন্টিবায়োটিক গ্রহণের আগে সঠিক ডোজ, কত দিন খেতে হবে ও কোন সময় খেতে হবে, ভালো করে জেনে নিন। একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে ডোজ পড়তে হবে। অধিকাংশ ভাইরাসজনিত রোগ ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে সেরে যায়, কোনো অ্যান্টিবায়োটিক লাগে না। এসময়টুকুতে কোনো ওষুধ না খাওয়াই ভালো। ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ সন্দেহ হলে সঠিক পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে ফেলুন।

-সিভয়েস/এসসি

আরও পড়ুন

করোনা রোগীর চিকিৎসায় চট্টগ্রামে হচ্ছে ১০ শয্যার আইসিইউ 

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ১০ শয্যার বিস্তারিত

সংক্রমিত ব্যক্তির ব্যবহৃত হেলমেট ব্যবহারে হতে পারে করোনা, বিকল্প কি?

মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে ঘর বা বাসা থেকে বের হয়। আর কোনো ঝামেলা ছাড়া বিস্তারিত

‘শ্রমজীবী নারীদের নিজের সময় বলতে কিছু নেই’

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারীর অধিকার রক্ষায় ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে বিস্তারিত

সেন্টমার্টিন দ্বীপে মোটরবাইক চালাতে মানা, তবুও চলছে ১২০টিরও বেশি!

পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেন্টমার্টিন দ্বীপে জেঁকে বসেছে বিস্তারিত

দিনে কর্ম কমিশনের অফিস সহায়ক, রাতে দোকানি, তাও মূল ফটকের সামনে!

নগরের চকবাজার থানা এলাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) পূর্ব বিস্তারিত

স্বার্থান্বেষী মহল যেন চবি’র সৌন্দর্য হরণেই ব্যস্ত!

কোনো নির্বাচনী আমেজ বা নির্দিষ্ট কোন উৎসব নয়। সারাবছরই বিভিন্ন অজুহাতে বিস্তারিত

দিনদুপুরে ফুটপাতেই ‘চোরাই মার্কেট’, নীরব প্রশাসন

নগরের পুরাতন এবং নতুন রেল স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় ফুটপাত দখল করে গড়ে বিস্তারিত

মাস্ক নিয়ে ব্যবসায়ীদের ছিনিমিনি, বাড়তি দামে মিলছে মাস্ক

চীনে ছড়ানো ‘করোনা’ ভাইরাস থেকে রেহাই পেতে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ বিস্তারিত

ধোপাছড়ি শীলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি শীলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকার নির্ধারিত ভর্তি বিস্তারিত

সর্বশেষ

অবশেষে এসিল্যান্ডের চেয়ার হারালেন সেই সায়মা

অবশেষে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে যশোরের বিস্তারিত

সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস রবিবার থেকে শুরু

আগামিকাল রবিবার (২৯ মার্চ) থেকে সংসদ টেলিভিশনে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত

শ্রমজীবী মানুষের মাঝে অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন মেয়র নাছির

সাধারণ ছুটির এই সময়ে শ্রমজীবী জনসাধারণ কর্মহীন অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। বিস্তারিত

বাড়িতে বাড়িতে ছাত্রলীগ নেতা নওফেলের জীবাণুনাশক স্প্রে

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে জীবাণুনাশক স্প্রে এবং বিস্তারিত

সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত, এই ওয়েব সাইটের যেকোন লিখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ন বেআইনি