image

আজ, শনিবার, ৩০ মে ২০২০ ,


তর্কে বিতর্কে এমপি নদভী! (ভিডিও সহ)

তর্কে বিতর্কে এমপি নদভী! (ভিডিও সহ)

ছবি : সিভয়েস

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একনিষ্ঠ কর্মী প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী। সুকৌশলে আওয়ামী লীগের পক্ষে সংসদ সদস্য হয়েছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে। জামায়াতের সাথে তার সখ্যতার অভিযোগ ছিলো প্রথমদিকে। তবে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বেশ আলোচনায় আসেন এমপি নদভী। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে তার দূরত্ব চরমে পৌঁছেছে। এমপি নদভীর প্রাথমিক জীবন, কর্মজীবনের সবখানে জামায়াত সংশ্লিষ্টতা ছিলো। এমনকি তিনি বিয়ে করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাঁশখালী থেকে একাধিকবার জামায়াতের এমপি প্রার্থী মুমিনুল হক চৌধুরীর মেয়েকে। স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরীও ছাত্রী image সংস্থার সাথে জড়িত ছিল বলে গণমাধ্যমে উঠে আসে।

ইউএনও বদলি বিতর্ক: 
সম্প্রতি জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে ইউএনওকে বদলির চেষ্টা, রোহিঙ্গা ত্রাণ নিয়ে নয়ছয়, গাড়িতে ঢিল মারায় এক মানসিক প্রতিবন্ধী মহিলাকে দেহরক্ষী দিয়ে মারধর, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে এলাকার কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করা, স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিপরীতে অবস্থান নেয়া, মাহফিলে জনতার জুতা বৃষ্টির মুখে পলায়ন, স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরীকে আওয়ামী মহিলা রাজনীতিতে আনার মত বিতর্কিত কাজ বারবার স্থানীয় আওয়ামী নেতাদের নিরাশ করেছে। নিজেকে পরিণত করেছেন বিতর্কের প্রধান লক্ষ্যে।  

সম্প্রতি লোহাগাড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহবুব আলমের বদলিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উপজেলা আওয়ামী লীগকে পাশ কাটিয়ে নদভী নিজ আত্মীয়-স্বজনদের দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছেন। তাছাড়া নদভী ও তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে মামলা-হুমকি এবং জায়গাজমি দখলের অভিযোগও পাওয়া গেছে। 

সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, সরকারি বরাদ্দ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সভা-সমাবেশ সব কিছুই উপজেলা আওয়ামী লীগকে পাশ কাটিয়ে উনার (নদভী) আত্মীয়-স্বজন নিয়ে নিজের খেয়াল খুশিমত করে যাচ্ছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাথে সাংগঠনিকভাবে এমপির দিনদিন দুরত্ব বেড়েই চলছে। এই ইস্যু নিয়ে নদভীর অনুসারী এবং লোহাগাড়া আওয়ামী লীগের অবস্থান বিপরীত মেরুতে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল)  ‘সচেতন জনসাধারণ’র ব্যানারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা নদভীর অনুসারীরা বিক্ষোভ ও সড়কে ব্যারিকেড দেয়। বিকাল ৪ টার  দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপজেলা পরিষদ গেট এলাকায় তারা এ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। অন্যদিকে এ বিক্ষোভ মিছিলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লোহাগাড়া আওয়ামী লীগ। তারা দাবি করে, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ইউএনওকে সরাতে এমপি নদভী ও তার অনুসারীরা ষড়যন্ত্র করছে।

এ সময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ‘লোহাগাড়ার মাটি, নদভী ভাইয়ের ঘাঁটি’ এবং ‘দুর্নীতিবাজ ইউএনও’র অপসারণ চাই, অপসারণ চাই’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা। এ কারণে বিকাল ৪টা ১৫ মিনিট থেকে সাড়ে ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দীন হিরু ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।

জানা যায়, সম্প্রতি লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নে খাসজমি দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে নদভী ও লোহাগাড়ার ইউএনও’র মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ফলে নদভী ওই ইউএনও’র বাবা বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত রয়েছে বলে সরকারের কাছে নালিশ করলে তাৎক্ষণিক ইউএনওকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি সঠিক নয় প্রমাণ পেলে বদলি স্থগিত রাখা হয়। এদিকে, নদভীর পক্ষ হয়ে লোহাগাড়ায় মানববন্ধন করে আওয়ামী-ছাত্রলীগ। তারা ইউএনওকে জামায়াত-শিবিরের দোসর বলে তার শাস্তি দাবি করে। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, এর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অন্যদিকে, পদুয়া ইউনিয়নে খাসজমি দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী দিনমজুর নুরুল আলম ঘরছাড়া। তিনি জানান, নদভীর লোকজন তাকে নানাভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে লোহাগাড়ায় জামায়াত ও বিএনপির বিরুদ্ধে নাশকতা মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীসহ মোট ১৬ জনকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটায় নদভী। তাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী।

স্যুভেনিয়রে নদভী-জামায়াত কানেকশান:
এমপি নদভী ১৯৯৫ সাল থেকে জামায়াতের দুর্গ হিসেবে পরিচিত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করে আসছেন। অধ্যাপনা শুরুর সময় থেকে তিনি আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের সাথে যুক্ত হন। সম্প্রতি এই প্রতিবেদকের কাছে ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের একটি স্যুভেনিয়র হাতে এসেছে, যেখানে নদভীর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের আমীর কাজী হোসাইন আহমদ, পাকিস্তানের জামায়াত নেতা আবদুল গাফফার, জামায়াত ইসলামীর সাবেক আমীর মতিউর রহমানসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের একান্ত সাক্ষাতের ছবি রয়েছে। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আজমের একটি প্রশংসাপত্রও পাওয়া যায়। যেখানে গোলাম আজম  নদভীকে একজন বিজ্ঞ, জ্ঞানী ও উদীয়মান যুবক হিসেবে উল্লেখ করেন।

সেখানে বলা হয়, ‘শেখ আবু রেজা নদভী। তিনি আমার পরিচিত। আমি জানি, তিনি একজন জ্ঞানী, বিজ্ঞ ও উদীয়মান যুবক। বিশ্বে বিশুদ্ধ আক্বিদায় বিশ্বাসী আলেম সমাজের মধ্যে তার যথেষ্ট পরিচয় রয়েছে। আমি তার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি, মহান আল্লাহ যেন তাকে আরো বেশি ইসলামের খেদমত করার সামর্থ্য দেন এবং তার ইহ ও পরকালীন কল্যাণ কামনা করছি- প্রফেসর গোলাম আজম, আমীর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।’
জানা যায়, এ স্যুভেনিয়রের ছবি-ডকুমেন্টগুলো আগের। যখন নদভী ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হন। এ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নদভী মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফান্ড পান। মূলতঃ জামায়াতে ইসলামীর পরিচয়ে তিনি এ দাতব্যমূলক এনজিওর সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছিলেন।

এমপি নদভীর বউ বিতর্ক :
নিজে আওয়ামী লীগে সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি নদভী নিজের স্ত্রীকেও রাজনীতিতে সক্রিয় করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু নিজেকে কোনোরকমে আওয়ামী লীগে ফিট করা গেলেও, বউকে নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করা হয় তার স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরীকে। কিন্তু জামায়াত সম্পৃক্ততার অভিযোগে রিজিয়া রেজাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এর দুই মাস পর রিজিয়া রেজা আবারো মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পান।

পাগল মহিলাকে দেহরক্ষী দিয়ে মারধর:
এমপি নদভীর দেহরক্ষীর বেদম পিটুনিতে আহত হয়েছেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী। নদভী চট্টগ্রাম থেকে লোহাগাড়ায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে পটিয়ার মনসা এলাকায় ঢিল ছুঁড়েন এক নারী। এতে গাড়ির এক পাশের কাঁচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন নদভীর উপস্থিতিতে ওই মহিলাকে মারধর করে তার দেহরক্ষীরা। গত ২৫ এপ্রিল বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসলে, ওই মহিলার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমের চিহ্ন দেখা যায়।

মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীর সন্তান আবু সৈয়দ খোকন সিভয়েসকে বলে, সকাল থেকে আমার মা ওই এলাকায় চারদিকে পাথর ছুঁড়েছেন। হঠাৎ এমপি নদভীর গাড়ি এসে পড়লে একটি পাথর গিয়ে পড়ে গাড়িতে। এসময় এমপির দেহরক্ষীরা ধাওয়া করলে আমার মা পুকুরে পড়ে যান। পুকুর থেকে সুকৌশলে রাস্তার উপর এনে আমার মাকে লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করে দেহরক্ষীরা। পুকুরে নামিয়ে আবার তুলে মারধর করে ওরা। 

খোকন আরো জানায়, এলাকায় আমার মা মানসিক ভারসাম্যহীন হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এমপি’র দেহরক্ষীরা আমার মাকে ভাল মানুষ সাজিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে এলাকার মানুষ এসে এমপি’র দেহরক্ষীদের হাত থেকে উদ্ধার করে আমার মাকে। তারপরও দেহরক্ষী ও পুলিশ আমার মা এবং তাকে উদ্ধার করতে যাওয়া সবাইকে তুলে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। এরপর বাড়িতে পুলিশ গিয়ে সবাইকে স্বাক্ষর দিতে বলে ও দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে ডাক্তারি সার্টিফিকেট তাদের হাতে জমা দিতে বলে। যাতে করে এমপি নদভীকে পুলিশ বলতে পারে, ওই মহিলা মানসিক ভারসাম্যহীন। তখন এমপি সাহেব বুঝবেন ওই মহিলা পাগল নাকি সুস্থ। 

খোকন জানায়, পুলিশ আমাদের আরো বলে, বুধবার (২৫ এপ্রিল) যেন আমার মা’কে মেডিকেলে ভর্তি করিয়ে ডাক্তারি সার্টিফিকেট তাদের কাছে জমা দিই। কিন্তু সকালে মা’কে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসলেও সময় সংক্রান্ত জটিলতায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার মাকে ভর্তি করায়নি। এর আগে আমার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর কাগজপত্র পুলিশকে জমা দেওয়ার কথা বললে তারা জানায়, নতুন করে ভর্তি করিয়ে ডাক্তারি সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে এবং তা এমপি স্যারকে দেখাতে হবে।

এদিকে এমপি নদভী ওই নারীকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন বলে বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলেও তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে জানিয়েছে খোকন। 
খোকন জানায়, এমপি নদভীর পক্ষ থেকে আমার মাকে কোন টাকা দেয়া হয়নি। বরং আমার মা আহত হয়ে কোন চিকিৎসা পায়নি। অন্যদিকে পটিয়া থানা পুলিশ উল্টো হুমকি-ধমকি দিচ্ছে, পাগলের সার্টিফিকেট দেয়ার জন্য। এছাড়াও ওই সার্টিফিকেটের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানও তোড়জোড় করছেন। কিন্তু কেউ আমার মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব নিচ্ছে না। 

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ নিয়ে নয়ছয়:
এমপি নদভীর আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন রোহিঙ্গাদের ত্রাণ নিয়ে ‘নয়ছয়’ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছিলো। বিদেশ থেকে পাঠানো ত্রাণের বিপুল অংশ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ত্রাণ নদভীর নিজ এলাকার গরিব-দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছিলো। ঘটনার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি তিনটি এনজিওকে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে নিষেধ করেছে। যার একটি নদভীর আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন। 

জানা যায়, মালয়েশিয়ার এনজিও ‘কেলাপুত্রা-১’-এর চেয়ারম্যান সে দেশের ধর্ম ও হজ্বমন্ত্রী। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এনজিও কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন নদভী। তিনি আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। কেলাপুত্রা-১ থেকে দুই দফায় ১ হাজার ৬শ’ টন ত্রাণসামগ্রী পেয়েছে এমপি নদভীর ওই এনজিও। এর মধ্যে ১৬০ টাকা কেজি দরের বাসমতি চাল ছাড়াও ডাল, তেল, চিনি, ময়দা ইত্যাদি রয়েছে। প্রথম দফায় সাত মাস আগে ১ হাজার ৭০ টন এবং দ্বিতীয় দফায় ৫ মাস আগে ৫৩০ টন ত্রাণসামগ্রী আসে। সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দফায় আসা ত্রাণসামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ৭০ কোটি টাকা। এই ত্রাণ খালাসের ক্ষেত্রে বন্দর ও কাস্টমসের ২ কোটি টাকার চার্জও মওকুফ করে দেয়া হয়।

জানা যায়,  সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় কয়েক দফায় গরিব-দুঃস্থদের মাঝে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। অন্তত ৭ হাজার পরিবারকে ১৬ কেজি করে চাল, ডাল, তেল, চিনি, ময়দা ইত্যদি দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এমপি নদভীর ছবি সংবলিত ব্যানার এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ছবি সংবলিত ব্যানার পাশাপাশি টাঙানো হয় ত্রাণ বিতরণের সময়। ব্যানারে রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ প্রেরণ বিষয়টি লেখা ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো ত্রাণ নিজ এলাকায় কেন বিতরণ করা হলো এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ অনেকেই এর সমালোচনা করে বলেন, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্য দিচ্ছে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো। আর সেই ত্রাণ নিজ এলাকায় বিলি করে এমপি নদভী অনৈতিক কাজ করেছেন। 

গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর উখিয়ার কুতুপালংয়ে শরণার্থীদের জন্য খোলা কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ত্রাণ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের এন্ট্রি খাতায় দেখা যায়, আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের নামে ৩ হাজার প্যাকেট ভর্তি একটি ট্রাক ঢোকে। ওই ট্রাকের ত্রাণ এমপি নদভী নিজেই বিতরণ করেন। এর একদিন আগে এমপি নদভীর নামে আরেকটি ট্রাক এন্ট্রি করা হয়। ৪৬৬ নম্বরে এন্ট্রি হওয়া ওই ত্রাণের মধ্যে দেখা যায়, শুকনো খাবার ৩৪০ প্যাকেট, হাঁড়ি-পাতিল ৩৪০ পিস, কাপড় ৩৪০ পিস। এ ত্রাণসামগ্রী ওইদিন নদভীর স্ত্রী রিজিয়া রেজা বিতরণ করেন। এর আগে ২২ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের ত্রাণভান্ডারে এক ট্রাক ত্রাণ দেন নদভী। ওই ট্রাকে ২ হাজার ৮২৫ বস্তা ত্রাণ ছিল। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আর কোনো ত্রাণ দেয়ার তথ্য নেই কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ত্রাণ নিবন্ধন খাতায়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সর্বশেষ আসা ৭০ কোটি টাকার ত্রাণের মধ্যে নিজ সংসদীয় এলাকায় ২০ কোটি টাকার ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে বলে দাবি সংস্থার চেয়ারম্যান নদভীর। অন্যদিকে নিবন্ধন হিসাব অনুযায়ী উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে বড়জোর এক কোটি টাকার ত্রাণ প্রদান করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, বাকি ত্রাণ গেল কোথায়!

জনতার জুতা বৃষ্টিতে এমপির নদভীর পলায়ন (ভিডিওসহ)
২০১৪ সালের ৩১ জানুয়ারি  রাত ৮টার দিকে লোহাগাড়ার চুনতি ঐতিহাসিক সিরাতুন্নবী মাহফিলে বক্তব্য দিতে উঠলে উপস্থিত জনগণ তাকে জুতা নিক্ষেপ করে। অবস্থা বেগতিক দেখে নদভী মঞ্চ ছেড়ে চলে যান। জানা গেছে, প্রায় ১শ’ বছর ধরে চুনতি এলাকায় ১৯ দিনব্যাপী এই সিরাতুন্নবী মাহফিল পালিত হয়ে আসছে। মাহফিলের সমাপনী দিনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম আমিনের বক্তব্য শেষে নদভী বক্তব্য দিতে উঠলে উপস্থিত মুসল্লিরা হৈ চৈ শুরু করে। একপর্যায়ে এমপিকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ শুরু হয়। শতাধিক জুতা তার গায়ে পড়ে। অবস্থা বেগতিক দেখে নদভী মঞ্চ ছেড়ে চলে যান।

 

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য: 
লোহাগাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদুল আলম বলেন, কৌশলে আওয়ামী লীগ থেকে নমিনেশন নিয়েছেন তিনি। আমরাও নেত্রীর সিদ্ধান্তকে সম্মান করে যুদ্ধ করে তাকে নির্বাচিত করেছি। ভেবেছিলাম, উনি এমপি হওয়ার পর মূলধারায় ফিরে আসবেন। কিন্তু তিনি জামায়াতী রয়ে গেছেন। তিনি দলমুখী নন, কর্ম বা জনগণমুখীও নন। তিনি যদি আবার  নমিনেশন পান, তাহলে লোহাগাড়া উপজেলার সকল আওয়ামী নেতৃবৃন্দ পদত্যাগ করবেন।
তিনি আরো বলেন, উনার শ্বশুর মমিনুল হক চৌধুরী জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে সুরার সদস্য। উনি নিজেও একজন জামায়াতের লোক। তার সমস্ত কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী। তিনি কিভাবে আওয়ামী লীগ থেকে নমিনেশন পান, তার স্ত্রী কিভাবে মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হন- বুঝতে পারি না। এসব বলতেও আমাদের লজ্জা লাগে। তৃণমূল পর্যায়ে কোনো আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নেই।
লোহাগাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন হিরু বলেন, উনি যে একজন জামায়াতের লোক তাতে কোনো সন্দেহ নেই। একজন জামায়াত ঘরানার লোক কিভাবে আওয়ামী লীগ থেকে নমিনেশন পেয়েছেন, তা আমার বোধগম্য নয়। উনি সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে তার (নদভী) কোনো সম্পর্ক নেই। জেলা পর্যায়ে একাধিকবার বসার চেষ্টা করলেও তিনি বসেননি। এখন পর্যন্ত তার উদ্যোগে কোনো সভা সমাবেশ হয়নি। আমরা যখন কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে উনাকে বলি, তিনি কোনো কথা বলেন না।

তিনি আরো বলেন, নদভী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি আওয়ামী লীগকে এড়িয়ে চলেন। যে কেউ আসলে দেখতে পাবে তৃণমূল পর্যায়ে কারো সমর্থন তার প্রতি নেই। তিনি বরাবরই আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী কথা বলেন। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে কটাক্ষ করেন। তার নিজস্ব কিছু লোক আছে। তিনি তাদের দিয়ে বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেন। আমাদের ইউএনওকে অপসারণের দাবিতেও তার নিজস্ব ব্যক্তি দিয়ে মিছিল করিয়েছেন। তিনি যে জামায়াতের লোক সেটি স্থানীয় পর্যায়ে এসে জিজ্ঞেস করলে যে কেউ বলবে। তিনি এখনো আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী রয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে ‘নেড়িকুত্তার’ সাথে তুলনা করেন। তিনি আমাদের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

এসব বিষয় নিয়ে এমপি নদভীকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলে, তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।


সিভয়েস/ডব্লিও/এইচআর/এমইউ/এমআইএম

আরও পড়ুন

ক্লিনিকে করোনা চিকিৎসা, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশয়

চট্টগ্রাম মহানগরীর বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ৪ হাজার ১৫৭টি শয্যা থাকলেও বিস্তারিত

চট্টগ্রামে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বিলবোর্ড, মেয়রের কড়া হুঁশিয়ারি

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের প্রধান সড়কে গত কয়েক বছর ধরে নয়নভরে সবুজ প্রকৃতি বিস্তারিত

করোনা/টিউশনি বন্ধে জীবিকা নিয়ে গৃহশিক্ষকদের কপালে চিন্তার ভাজ

টানা লকডাউনে টিউশনি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন গৃহশিক্ষকেরা। করোনা রোধ বিস্তারিত

করোনাকাল/ ইফতার বাজারে নেই সেই জৌলুশ, পাড়ার দোকানে মানছে না নিয়ম

সারাদেশে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন চলার মধ্যেই বিস্তারিত

লকডাউনকে পুঁজি করে চার-ছক্কায় আমদানিকারক ও মিল মালিকরা

সম্প্রতি সারাদেশে সরকার ঘোষিত লকডাউনকে পুঁজি করে লাগামহীন দ্রব্য মূল্যের বিস্তারিত

করোনা রোগীর চিকিৎসায় চট্টগ্রামে হচ্ছে ১০ শয্যার আইসিইউ 

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ১০ শয্যার বিস্তারিত

সংক্রমিত ব্যক্তির ব্যবহৃত হেলমেট ব্যবহারে হতে পারে করোনা, বিকল্প কি?

মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে ঘর বা বাসা থেকে বের হয়। আর কোনো ঝামেলা ছাড়া বিস্তারিত

‘শ্রমজীবী নারীদের নিজের সময় বলতে কিছু নেই’

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারীর অধিকার রক্ষায় ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে বিস্তারিত

সেন্টমার্টিন দ্বীপে মোটরবাইক চালাতে মানা, তবুও চলছে ১২০টিরও বেশি!

পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেন্টমার্টিন দ্বীপে জেঁকে বসেছে বিস্তারিত

সর্বশেষ

সারাদেশে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্খা

দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় বিস্তারিত

পদ্মায় বসল ৩০তম স্প্যান

করোনাকালীন সময়ে ৩০তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে সাড়ে চার হাজার মিটার বিস্তারিত

রবিবার প্রকাশিত হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের ফলাফল

এসএসসি ও সমমানের ফল কাল রবিবার প্রকাশিত হবে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই বিস্তারিত

ফটিকছড়িতে ফেনী নদীতে কলেজ ছাত্র নিখোঁজ

ফটিকছড়িতে ফেনী নদীতে পড়ে পলাশ দে (১৭) নামে এক কলেজ ছাত্র নিখোঁজ রয়েছে। সে বিস্তারিত

সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত, এই ওয়েব সাইটের যেকোন লিখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ন বেআইনি