image

আজ, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯ ,


জলাবদ্ধতা রেখেই ছালামের ‘মৃত্যু’, এ ভোগান্তির শেষ কোথায়?

জলাবদ্ধতা রেখেই ছালামের ‘মৃত্যু’, এ ভোগান্তির শেষ কোথায়?

ফাইল ছবি

অল্প বৃষ্টি বা জোয়ারে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেক পুরনো। আশির দশক থেকেই এ সমস্যা নিরসনে বহু ধরনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও এর কোনোটিরই সুষ্ঠু বাস্তবায়ন দেখেনি নগরবাসী। ফলে তখন থেকেই নগরবাসীকে জলাবদ্ধতায় নানামুখী ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা এলেই চট্টগ্রাম তলিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বিশাল অংকের মেগা প্রকল্প ঘোষণা করে নগরবাসীকে আশার আলো দেখিয়েছিল সরকার। সেই আশার স্রোতে আবার ধরেছে ভাটার টান। সময় পেরিয়ে গেলেও বিশাল বাজেটের এ প্রকল্পের পরেও কোনো সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী। অবশ্য সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম image এক অনুষ্ঠানে বলছিলেন চট্টগ্রামবাসীকে একটু ধৈর্য্যধারণ করতে হবে। এ সমস্যা সমাধান হবে। এক বছরের মধ্যে জলাবদ্ধতা সমস্যারদৃশ্যমান পরিবর্তন আপনারা দেখতে পাবেন। জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান না করে আল্লাহ আমার মৃত্যু না করেন। সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম এসব আশার বাণী শুনালেও অবশেষে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ শুরু না করেই বিদায় নিতে হয়েছে তাকে। এখনও পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএ বেশিরভাগই কাজ শুরু করতে না পারায় রিবক্ত নগরবাসী। 

এর আগে জলাবদ্ধতা নিরসনে বরাদ্দ নেই বলে অনেক সময় অভিযোগ করা হতো নগরবাসী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তরফ থেকে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই অভিযোগের ধারা ভেঙ্গে জলবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রকল্পের কাজে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। বিশাল বাজেটের এ মেগা প্রকল্প থাকার পরেও কোনো সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর। 

জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। প্রকল্পে ব্যয়ের মধ্যে ৩৬টি খালের মাটি অপসারণ, ৬ হাজার ৫১৬ কাঠা ভূমি অধিগ্রহণ, নতুন ৮৫ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করার কথা বলা হয়েছে। তার সাথে ১৭৬ কিলোমিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, ৪৮টি পিসি গার্ডার ব্রিজ প্রতিস্থাপন, বন্যার পানি সংরক্ষণে ৩টি জলাধার, ৬টি আরসিসি কালভার্ট প্রতিস্থাপন, ৫টি টাইডাল রেগুলেটর, ১২টি পাম্প হাউস স্থাপন, ৪২টি সিল্টট্রেপ স্থাপন, ২০০টি ক্রস ড্রেন কালভার্ট নির্মাণ করার কথাও ছিল। ৫ হাজার কোটি টাকার এ মেঘা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের জুনে। এ প্রকল্পের সময় বাকি আছে এক বছরেরও কম। 

প্রবাসী ইসমাইল জসীম মেগা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বর্তমান সরকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু এ মেগা প্রকল্পের কাজের সময় শেষ হয়ে এসেছে। তারপরও নেই কোনো অগ্রগতি। আমরা এতো কিছুর পরও পাচ্ছি না মেগা প্রকল্পের সুফল।

বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, জনপ্রতিনিধিদের জলাবদ্ধতার সমস্যা জানানো হলে তারা অর্থ বরাদ্দ হয় না বলে দায় সারতেন। প্রধানমন্ত্রী যখন জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প পাশ করলেন তখন আমরা খুব আশা দেখেছিলাম এবার হয়তো মুক্তি মিলবে। কিন্তু আমাদের এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে কিনা কারোই জানা নেই।

এ বিষয়ে মেগা প্রকল্পের প্রজেক্ট ডাইরেক্টর লে. কর্নেল মো. শাহ্ আলী বলেন, আমরা নির্দিষ্ট সময়ে এ মেঘা প্রকল্পের কাজ হাতে পাইনি। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রথম ধাপ খাল পরিষ্কার করা। কিন্তু এ মেগা প্রকল্প যখন পেয়েছি তখন খাল পরিষ্কার করার স্কোপ ছিল না। কারণ, খাল পরিষ্কার করতে শুকনো মৌসুম লাগে। বর্ষায় কখনও খাল পরিষ্কার করা সম্ভব নয়।

মেগা প্রকল্পের কত শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি নির্দিষ্ট করে বলা কষ্টকর। তবে আমার এ পর্যন্ত ১৩টি খাল পরিষ্কারের কাজ করছি। আর পাশাপাশি ব্রিজ-কালভার্ট এসবেরও কাজ করছি। 

সাধারণ জনগণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ জনগণ জানেন না এ প্রকল্পের কাজ কখন কিভাবে শুরু হয়েছে। জনগণ এটিও জানেন না যে আমরা এ প্রকল্পের কাজ কখন হাতে পেয়েছি। কিন্তু আমরা যদি এ প্রকল্পের কাজ ঠিক সময়ে পেতাম তাহলে আমরা অবশ্য সাধারণ জনগণের মাঝে সুফলের চিত্র তুলে ধরতে পারতাম। আর নগরবাসী তখনই এ মেগা প্রকল্পের সুফল দেখতে পাবেন।

সিভয়েস/এমএম/এএইচ

আরও পড়ুন

মেয়াদোত্তীর্ণের নয় মাস পরও পূর্ণাঙ্গ হয়নি দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি

মেয়াদোত্তীর্ণের ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি বিস্তারিত

একটি সেতু হলেই দু:খ ঘুছাবে দশ গ্রামের মানুষের

একটি সেতুর দাবি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের। আর এ সেতুটি  হলেই যাতায়াতের দুঃখ বিস্তারিত

জামালখানে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম স্ট্রিট অ্যাকুরিয়াম

আদিম কাল থেকেই মানব সমাজ মাছকে খাদ্য উপকরণের পাশাপাশি সৌন্দর্য প্রিয় বিস্তারিত

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়ে দিচ্ছেন মেয়র নাছির

অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে চট্টগ্রাম বিস্তারিত

এবার নতুন রূপে সাজবে বহু ইতিহাসের সাক্ষি “লালদিঘী ময়দান”   

চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দান এই বাংলার ইতিহাসের সাথে বিস্তারিত

চট্টগ্রামে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বাতিলের আন্দোলন, ভ্রুক্ষেপ নেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বাতিলের দাবিতে দলের বিস্তারিত

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি এক তৃতীয়াংশ পরীক্ষার্থী

চতুর্থ ও শেষ ধাপের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে বিস্তারিত

কর্ণফুলী টানেলে ৯৮টি রিং স্থাপন, ১৯৪ মিটার খনন সম্পন্ন

কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে পুরোদমে চলছে টানেল নির্মাণের কাজ। দু’পাশের কাজ বিস্তারিত

ফটিকছড়িতে আষাঢ়েও মিলছে মৌসুমী ফল

ফটিকছড়িতে বর্ষা মৌসুম আষাঢ়েও মিলছে মৌসুমী রসালো ফলমূল। সাধারণত বৈশাখ- বিস্তারিত

সর্বশেষ

লামায় আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

লামায় আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

লোহাগাড়া ও বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা উপজেলায় মো. আলমগীর নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা বিস্তারিত

ঢিমেতালে চলছে বোয়ালিকুল সেতুর কাজ, ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প সেতু

হাটহাজারীর বোয়ালিকুল-মধ্য মাদার্শা এলাকায় মাদারি খালের ওপর গার্ডার ব্রিজ বিস্তারিত

চট্টগ্রামে দুই কলোনিতে আগুন, মা-মেয়ের মৃত্যু

নগরীর বন্দর থানার কলসি দীঘির পাড় এলাকায় দুই কলোনিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বিস্তারিত

মেশিনারি পণ্যের ঘোষণায় মদ বিয়ার আমদানি

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করার সময় চট্টগ্রাম কাস্টমসের আনস্টাফিং শাখার বিস্তারিত

সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত, এই ওয়েব সাইটের যেকোন লিখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ন বেআইনি

close